Puja-Guide হিন্দু বাঙ্গালীর সহজ আদর্শ No.1 Blog

Puja Guide প্রদর্শিত এই ব্লগে আপনার পূজা সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও আচার-আচরণ সহজ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পূজা সর্ম্পকিত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর এই ব্লগে উপস্থাপিত করা হয়েছে। আশাকরি এই ব্লগ সকলের পূজা সম্পর্কিত কার্যের সহায়ক হবে।

প্রতিদিন অবশ্যই সন্ধ্যা করা উচিত। এর দ্বারা রোগ ব্যাধি দূরে থাকে। মন প্রফুল্ল থাকে, সংসারের মঙ্গল সাধিত হয়।দেবতারা প্রীত হন। অকাল মৃত্যু সাধারণত হয় না।

Puja Guide এ নিত্যকর্ম ক্রিয়া কালে যে সকল ক্রীয়া কর্ম্ম সকল গৃহস্থের অবশ্যই জানা উচিত তা এই স্থানে আলোচনা করা হল। গৃহের সুখ-শান্তিলাভ কামার্থে সঠিক প্রয়োগের দ্বারা তা সকল গৃহস্থের অবশ্যই নিত্যদিন পালনীয়।

ত্রিসন্ধ্যা অর্থাৎ দিনে তিন বার সন্ধ্যা করা কর্ত্তব্য,সন্ধ্যার দ্বারা অল্প সময়ের জন্য ঈশ্বরের সান্নিধ্যে আসা যায়। সূর্য্যদয়ের পূর্বে ২৪ মিনিট থেকে সূর্য্যদয়ের ২৪ মিনিট পরে সময়কে প্রাতঃসন্ধ্যা পূর্ব বা উত্তর মুখে বসে করতে হবে। দুপুর ১১ টা থেকে ১২ টা পর্য্যন্ত মধ্যাহ্ণ সন্ধ্যা পূর্ব বা উত্তর মুখে বসে করতে হবে। সূর্য্যাস্তের পূর্বে ২৪ মিনিট থেকে সূর্য্যাস্তের ২৪ মিনিট পরে সায়ংসন্ধ্যার প্রসস্ত সময় বলা হয়। যা কেবল উত্তর মুখে বসে করতে হবে।

সন্ধ্যা ও পূজা করবার কালে কথা বলা নিষিদ্ধ। কথা বলে ফেললে “ ওঁ নমো বিষ্ণবে “ বলে আবার শুরু করতে হবে।

অশৌচকালে, সায়ংসন্ধ্যার মুখ্যকালে যদি দ্বাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা, সংক্রান্তি থাকে তবে সায়ংসন্ধ্যা নিষিদ্ধ।

সন্ধ্যাশেষে সর্ব দেবতা ও ব্রাহ্মণের প্রণাম মন্ত্রঃ

আ সত্যলোকাদাপাতালাদালোকালোকপর্বতাত্‌। যে সন্তি ব্রাহ্মণা দেবাস্তেভ্যো নিত্যং নমো নমঃ।

Table of Contents

হিন্দু-বাঙ্গালী পূজার প্রকারভেদ

মানস Puja

ধ্যান মুদ্রায় (কোলের উপর হাতদুটিকে চিত করে রেখহৃদপদ্মে দেবতা আসনে বসেছেন, এমন ভেবে শরীরের সহস্রধারকে পাদ্য, মনকে অর্ঘ্য, সহস্রদলে অবস্থিত সুধাকে আচমনীয়, স্নানের জল, আকাশকে বস্ত্র, মাটির ঘ্রাণকে গন্ধ, মনকে পুষ্প, প্রাণবায়ূকে ধূপ, নিজের শরীরের তেজকে দীপ, নিজের অমৃতরূপ ঞ্জানকে নৈবেদ্য,অনাহতকে ঘণ্টা, শব্দতত্ত্বকে গীত এবং চঞ্চল ইন্দ্রিয়কে নৃত্যরূপে নিবেদন করা। ইহাই মানস-পূজা।

Puja Dhyan Mudra
ধ্যান মুদ্রা। যে কোনো ধ্যান করবার সময়।

উপচার পূজাঃ

প্রতি প্রকারের পূজা ও তার আনুসঙ্গিক উপচার নিম্নে অবশ্য দ্রষ্টব্য
পূজার প্রকারপ্রতি পূজার উপচার
পঞ্চোপচার Pujaগন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দীপ এবং নৈবেদ্য-ধ্যানাদি পাঠের প্রয়োজন নেই।
দশোপচার Pujaপাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়,স্নানীয়,পুনরাচমনীয়, গন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দীপ এবং নৈবেদ্য।
ষোড়শোপচার Pujaআসন, স্বাগত, পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, মধুপর্ক, স্নানীয়,বসন, আভরণ,গন্ধ,পুষ্প, ধুপ,দীপ, নৈবেদ্য, পুনরাচমনীয়,তাম্বুল(পান), অর্চনা, স্তোত্রপাঠ, তর্পণ, নমস্কার।
অষ্টাদশোপচার Pujaআসন, স্বাগত, পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনীয়, মধুপর্ক, স্নানীয়, যঞ্জোপবীত, বসন, আভরণ,গন্ধ,পুষ্প, ধুপ,দীপ,মাল্য, অন্ন,দর্পণ, নৈবেদ্য, পুনরাচমনীয়,তাম্বুল(পান), অর্চনা, স্তোত্রপাঠ, তর্পণ, নমস্কার।

প্রতি পূজার প্রাথমিক  কর্ত্তব্য

গঙ্গা বারি সেচনঃ – ওঁ বিষ্ণু পাদার্ঘ সম্ভূতে গংগে ত্রিপথ গামিনী। ধর্ম দ্রবীতি বিখ্যাতে পাপং মে হর জাহ্ণবী। শ্রদ্ধয়া ভক্তিসম্পন্নে শ্রীমাতঃ দেবী জাহ্ণবী। অমৃতেন অম্বুনা দেবী ভাগীরথী পুণীহি মাম ।

তিলক ধারন মন্ত্র -ঃ কান্তিং লক্ষীং ধৃতিং সৌখং সৌভাগ্যম অতুলং মম। দদাতু চন্দনং নিত্যং সততং ধারয়াম অহং।

শিখাবন্ধন-ঃ ওঁ ব্রহ্মবাণী সহস্রাণি শিববাণী শতানি চ। বিষ্ণুঃ নাম সহস্রেণ শিখাবন্ধনং করোম অহম।

কুশাংগুরীয় ধারণ ঃ- বিরিঞ্চিনা সহোথপন্ন পরমেষ্টি নিসর্গজ। নুদ সর্বাণী পাপানি দর্ভস্বস্তি করাভব। কুশোহসি কুশপত্রোহসি ব্রহ্মণা নির্মিতা পুরা। মমকার্য্য বিশুদ্ধ্যর্থং ছেদবাধা ত্যজঃ প্রভো।

আচমনঃ-

আচমনঃ-

যেকোনো পূজার প্রাক্‌কালে বৈদিক আচমনের সঠিক পদ্ধতি নিচের video তে দেখান আছে। এটি অভ্যাস করা সকলের একান্ত কর্ত্তব্য

তন্ত্রোক্ত আচমনঃ-

ওঁ আত্মতত্ত্বায়  স্বাহা, ওঁ বিদ্যতত্ত্বায় স্বাহা, ওঁ শিবতত্ত্বায়
 স্বাহা। ( ৩ বার জলপান)

মন্ত্রাচমনঃ- ক্রীং (
মন্ত্রে ৩ বার জল পান) ওঁ কাল্যৈ নমঃ, ওঁ কপালিনৈ নমঃ (দ্বিরাষ্ঠমার্জন)। ওঁ কুল্বায়ৈ নমঃ (হাত ধৌত)। তত্ত্বমুদ্রায়(বৃদ্ধ,মধ্য,তর্জনী) ওঁ কুরুকুল্বায়ৈ নমঃ(মুখ)। ওঁ বিরাধিনৈ নমঃ , ওঁ বিপ্রচিত্তায়ৈ নমঃ ( ডান ও বাম নাক), ওঁ উগ্রায়ৈ নমঃ, ওঁ উগ্রপ্রভায়ৈ নমঃ(ডান ও বাম চোখ । ওঁ দীপ্তায়ৈ নমঃ, ওঁ নীলায়ৈ নমঃ (ডান ও বাম কান) । ওঁ ঘনায়ৈ নমঃ (নাভী) । ওঁ বলাকায়ৈ নমঃ(হৃদয়) । ওঁ মাত্রায়ৈ নমঃ (শির) । ওঁ মুদ্রায়ৈ নমঃ । ওঁ মিতায়ৈ নমঃ (দুই বাহুমূল)।

বিষ্ণু গায়ত্রী পাঠঃ-  ত্রৈলোক্য মোহনায় বিদ্মহে কামদেবায় ধীমহি তন্নো বিষ্ণু প্রচোদয়াত।

বিষ্ণুস্মরণঃ- ওঁ শ্রী বিষ্ণু, ওঁ শ্রী বিষ্ণু, ওঁ শ্রী বিষ্ণু, ওঁ তদবিষ্ণু পরমমপদ সদা পশ্যন্তি সুরয় দিদীব চক্ষুরাতম । ওঁ অপবিত্র পবিত্রোবা সর্বাবস্থাং গত পিবা, যতস্মরেত পুণ্ডরীকাক্ষং সবাহ্যং অভ্যন্তর সুচী। ওঁ সর্ব মঙ্গল মঙ্গল মঙ্গলং বরেণং বরদং শুভং। নারায়ণং নমস্কৃতং সর্ব কর্মাণি চ কারয়েত।

গন্ধাদি অর্চনাঃ – বং (মন্ত্রে পুষ্পপাত্রে জলের ছিটা দিয়ে) এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ (১ টি ফুল মাটিতে ফেলবে)। এতে গন্ধপুষ্পে এতদধিপতয়ে বিষ্ণবে নমঃ( ১ টি ফুল তাম্রকুণ্ডের জলে), এতে গন্ধপুষ্পে এতৎ সম্প্রদানেভ্যো নারায়ণাদিভ্যো নমঃ (১ টি ফুল তাম্রকুণ্ডের জলে)। এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ নারায়নায় নমঃ। এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শ্রী গুরবে নমঃ। এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ। এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ । এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ।

সামান্যার্ঘ্য স্থাপন- জলশুদ্ধি ঃ

এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ আধার শক্তয়ে নমঃ ( বলে তার ওপর ১ টি সচন্দন পুষ্প দিয়ে)

ফট্‌ ( বলে তার ওপর কোশাটি রেখে)।

নমঃ ( বলে তার ওপর কোশার ওগ্রভাগে পুষ্প, দূর্বা,ওক্ষত দিয়ে ওং্কুশ মুদ্রায়)

ওঁ গঙ্গে চ ্যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী। নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলে ওস্মিন্‌ সন্নিধিং কুরু।

ওঁ গঙ্গাদি তীর্থেভ্যো নমঃ ( জলে গন্ধপুষ্প দিয়ে ধেনুমুদ্রা দেখিয়ে মৎস মুদ্রায় আচ্ছাদন করে)

ওঁ মন্ত্র বা মূলমন্ত্র ১০ বার জপ।

আসন শুদ্ধিঃ –(আসনের নিচে একটি ত্রিকোন এঁকে পুষ্প দিয়ে) ওঁ হ্রীঁ আধারশক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ। ওস্য আসনো উপবেসন মন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠ ঋষিঃ সুতলং ছন্দঃ কুর্মদেবতা আসনোপবেশনে বিনিয়োগঃ। ওঁ পৃথ্বী ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা। ত্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্‌।

গুরুপংতি প্রণামঃ – ওঁ গুরুভ্যো নমঃ, ওঁ পরমগুরুভ্যো নমঃ, ওঁ পরাপরগুরুভ্যো নমঃ, ওঁ পরমেষ্টিগুরুভ্যো নমঃ( বামদিকে)

ওঁ গণেশায় নমঃ (ডান দিকে) , ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ ( উর্দ্ধে), ওঁ অনন্তায় নমঃ( অধে) , ক্ষেত্রপালায় নমঃ

( পশ্চাতে), সর্ব দেবদেবীভ্যো নমঃ (সম্মুখে)।

করশুদ্ধি-ঃ ঐং (মন্ত্র উচ্চারনে একটি রক্তবর্ণ নিয়ে) ওঁ (মন্ত্রে দুই করতলে ঘষে), ক্লীং (বলে আঘ্রাণ নিয়ে)  হেঁসৌ ( মন্ত্রে ঐ পুষ্প ঈশান কোনে ছুঁড়ে ফেলতে হবে)।

ওঁ তে সর্বে বিলয়ং যান্তু যে মাং হিংসন্তি হিংসকাঃ। মৃত্যুরোগ- ভয়ঃ ক্লেশঃ পতন্তু রিপু মস্তকে।।

পুষ্পশুদ্ধি-ঃ পুষ্পকেতু রাজার্হতে শতায় সম্যক সম্বন্ধায় হূং। ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে। পুষ্প-চয়াবকীর্ণে চ হুং ফট্‌ স্বাহা।

সূর্য্যাঘ্রঃ- এষ অর্ঘ্য দারিদ্র দুঃখ দহনায়, রোগ হরায়,ও ক্ষোভ হরায়, সর্ব বাধাবিঘ্ন বিনাশায় কর্ম সাক্ষীনে শ্রী শ্রী সূর্য দেবায় নমঃ।

প্রণামঃ- ওঁ জবাকুসুম সংকাশং কাশ্যপেয় মহাদ্যুতিম, ধান্তারিং সর্বপাপেঘ্ন প্রণহ তস্মিন দিবাকর।

ওঁ আদিদেব নমস্তুভ্যং প্রসীদ মম ভাস্করে, দিবাকর নমস্তুভ্যং প্রভাকর নমস্তুতে।

বিভিন্ন দেবতার বীজ মন্ত্র, ধ্যান, প্রণাম মন্ত্র দেখান হল

তথ্য সূত্রঃ Puja Guide ব্লগের সকল তথ্য Puja সংক্রান্ত official Website থেকে সংগৃহীত

For more information: https://pujaguide.in

প্রশ্ন ১: পূজা গাইড ব্লগের মূল উদ্দেশ্য কী

পূজা গাইড ব্লগের মূল উদ্দেশ্য হল পূজা সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য এবং আচার-আচরণ সহজভাবে আলোচনা করা। ব্লগটি পূজা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে এবং আশাকরি এটি পাঠকদের পূজা সম্পর্কিত কার্যক্রমে সহায়ক হবে।

প্রতিদিন সন্ধ্যা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়?

প্রতিদিন সন্ধ্যা করা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি রোগ-ব্যাধি দূরে রাখতে সহায়ক, মনকে প্রফুল্ল রাখে, সংসারের মঙ্গল সাধন করে এবং দেবতাদের প্রীত করে। এছাড়াও, এটি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

নিত্যকর্ম ক্রিয়া কালে কোন বিষয়গুলি গৃহস্থদের জানা উচিত?

নিত্যকর্ম ক্রিয়া কালে গৃহস্থদের উচিত সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে পূজার নিয়ম-কানুন জানা এবং পালন করা। এই কার্যক্রম গৃহের সুখ-শান্তি এবং কামার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি প্রতিদিন পালনীয়।

a

Leave a Comment